×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • রিভিউ: শকুন্তলা দেবী

    রজত কর্মকার | 04-08-2020

    কম্পিউটার হলেও দোষ-গুণে ভরা হিউম্যান

     

    রেটিং: 3/5

     

    ম্যায় বড়ি হোকে বহুত বড়ি অউরত বনুঙ্গি। (আমি বড় হয়ে একজন খুব বড় নারী হব)

     

    কোনও প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই নারীসত্তার অ আ ক খ তাঁর রক্তমজ্জার মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল। মায়ের মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করাকে তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। দেশ ছেড়ে লন্ডনে গিয়েছেন। সেখান থেকে সারা বিশ্বের মানচিত্রে নিজের প্রতিভা, নিজের ব্যক্তিত্বকে সূর্যের আলোর মতো ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সূর্য যেমন আলো দেয়, উত্তাপ দেয়, তেমনই কাছে গেলে পুড়িয়েও দেয়। ম্যাথামেটিকাল জিনিয়াস শকুন্তলা দেবীর জীবন কাহিনিও অনেকটা এ রকমই। স্টেজের উপর তিনি হিউম্যান কম্পিউটার, অসম্ভব প্রতিভাময়ী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ব্যক্তি জীবনে নিঃসঙ্গ, অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং আত্মকেন্দ্রিক। মূলত এর জন্যেই তিনি হয়তো সাংসারিক জীবনে সুখী হতে পারেননি। একই কারণে মেয়ে অনুপমার সঙ্গে জীবনের অর্ধেকটা সময় সংঘাতেই কেটেছে।

     

    নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে সিনেমাটি বায়োপিক। বলিউডের বায়োপিক-প্রীতির শেষতম সংযোজন পরিচালক অনু মেনন-এর শকুন্তলা দেবী। বিদ্যা বালান নাম ভূমিকার প্রতি সুবিচার করেছেন। সিনেমার মেরুদণ্ড তিনিই। বিদ্যা কোন মাপের অভিনেত্রী তা নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। যতটা সময় তিনি স্ক্রিনে থেকেছেন, তাঁর অভিনয় ছাড়া আর কোনও কিছু চোখে পড়ে না। একই ভাবে শকুন্তলা দেবীর মেয়ে অনুপমার চরিত্রে দুরন্ত অভিনয় করেছেন সানিয়া মালহোত্রা। চরিত্র ছোট হলেও বেশ নজর কেড়েছেন যিশু সেনগুপ্ত (পরিতোষ ব্যানার্জি) এবং অমিত সাধ (অজয় অভয় কুমার)।

     

    এত ভালোর সঙ্গে বেশ কিছু খারাপ বিষয় সিনেমাটিকে অসাধারণ স্তরে উঠতে দেয়নি। সিনেমাটি মূলত শকুন্তলা দেবীর মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখানো হয়েছে। বায়োপিক তৈরির ক্ষেত্রে বিষয়টি একপেশে হয়ে যায়। সিনেমায় দেখানো হয়েছে শকুন্তলা দেবী গিনেস বুকে নাম তুলছেন, তাবড় তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় হয়ে উঠছেন। কিন্তু তিনি কেমন করে অভ্যাস করতেন, কেমন করে সংখ্যা নিয়ে খেলতেন, কেমন করে ক্যালেন্ডার ট্রিক রপ্ত করেছিলেন, সে সব কিছুই দেখানো হয়নি। যাঁকে নিয়ে বায়োপিক তাঁর স্টেজে কাটানো সময় ছাড়া বাকি সময় তিনি কী করতেন, কী বই পড়তেন, কখন লিখতেন, এ সব বিষয় পুরোটাই অন্ধকারে থেকে গিয়েছে।

     

     

    তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এই দেশে কম চর্চা হয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সিনেমায় তার জন্য বরাদ্দ মাত্র 3 মিনিট! সমকামিতা নিয়ে তাঁর লেখা বই দ্য ওয়ার্ল্ড অফ হোমোসেক্সুয়ালসনিয়ে দেশে-বিদেশে বিরাট সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শকুন্তলা। কিন্তু সে সব নিয়ে সিনেমায় বিশেষ কিছুই দেখানো হয়নি। সিনেমা তৈরির আগে আরও গবেষণা করার জায়গা ছিল, সেটা পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার (অনু মেনন, নয়নিকা মাথানি, ইশিতা মৈত্র) চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।

     

    তবে এতটা ফাঁকফোকড় থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি দেখতে গিয়ে বোর হবেন না। কারণ দুটো। প্রথমটি অবশ্যই সকলের অভিনয়। দ্বিতীয় কারণটি ঘটনাবহুল চিত্রনাট্য। মাত্র 2 ঘণ্টার মধ্যে এত কিছু দেখানোর চেষ্টায় দর্শকরা দম ফেলার সময় পাবেন না। 31 জুলাই সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। তাই বার বার টিকিট কাটার সমস্যা নেই। শুধুমাত্র বিদ্যা বালানের অভিনয়ের জন্যেই সিনেমাটি একাধিকবার দেখে ফেলা যায়, ‘বিদ্যা কসম

     

     


    রজত কর্মকার - এর অন্যান্য লেখা


    এই লেখা সেই সব ব্যক্তিদের জন্য যাঁরা এই পেশাকে প্রতিদিন চরম অপমান করে চলেছেন।

    এঁরা ঘুমের সুযোগ পান না এ কথা তাঁদের অতি বড় বন্ধু বা সমর্থকও বলতে পারবেন না। কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত

    ভাল করে বাংলা না বলেও বাংলার মানুষের জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে যাঁর, সেই ঘোষবাবু বদলের সঙ্গে বদলার স্বপ্ন

    আন্তর্জাতিক খুশি দিবসেই ফাঁসিতে ঝোলানো হল নির্ভয়ার ধর্ষকদের। খুশির দিনই বটে!

    দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদের তো গুলি করেই মারা উচিত, তাই না?

    যে কোনও চলে যাওয়া শূন্যতা তৈরি করে যায়। এস পি-র শূন্যতা ভরাট হওয়ার নয়।

    রিভিউ: শকুন্তলা দেবী-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested