বাদল অধিবেশনের নামে এবার সংসদে যা হল তা ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার। সরকার সমস্ত বিধি-বিধান উড়িয়ে দিয়ে শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংসদকে ব্যবহার করছে। বিরোধীরা প্রতিবাদের যে রাস্তা নিচ্ছেন তাও সম্মানজনক নয়। ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিন কি শেষ? এই বিষয়ে গত 12 অগস্ট (বৃহস্পতিবার) 4thpillarwethepeople.com একটি আলোচনার আয়োজন করেছিল। সুদীপ্ত সেনগুপ্তর সঙ্গে আলোচনায় সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী, সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা উপস্থিত ছিলেন।
1) সংসদের বাদল অধিবেশন যেদিন শুরু হয় তার আগের দিন পেগাসাস কাণ্ড প্রকাশ্যে আসে এবং প্রথমদিন থেকেই সংসদ এই বিষয় নিয়ে উত্তাল হয়। যদিও ব্যাপারটা আগে থেকেই অনুমান করা গিয়েছিল। যে কোনও আত্মসম্মান জ্ঞান সম্পন্ন সরকারের উচিত ছিল প্রথমেই বলে দেওয়া যে, তারা বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার উল্টে গোটা বিষয়টাকে ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়।
2) আমাদের সংবিধানে লেখা আছে কীভাবে সরকার চলবে। কিন্তু সেটা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে বর্তমান সরকার যেভাবে এই ব্যবস্থাটাকে দুর্বল করেছে, তা আগে কোনও সরকার করেনি।
3) এখন পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির বদলে ইলেকটেড অটোক্রেসি দেখা যাচ্ছে। স্বৈরতন্ত্র দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সংসদ অবমাননার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অতীতে হয়নি। কিন্তু আগামীদিনে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই মনে হয়।
4) কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এখন সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভকে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা এবং গণতন্ত্রের অবমাননা হিসাবে ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু ইউপিএ আমলে এই বিজেপিই টুজি, কোলগেট নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে একটানা সংসদ অচল করে রেখেছিল। তখন তারা বলেছিল এটাই নাকি গণতন্ত্র।
5) বিরোধীরা বুঝেছেন প্রচারমাধ্যমে আসতে হলে বিক্ষোভটাকে আকর্ষণীয় করতে হবে। তাই নজিরবিহীন ভাবে রিপোর্টার্স টেবিলে উঠে সাংসদরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে এটা ভাল নিদর্শন নয়৷ কিন্তু অতীতে এমন বিক্ষোভ দেখিয়েই অনেক নেতা দ্রুত লাইমলাইটে এসেছেন।
6) শাসকপক্ষও এই নজিরবিহীন অবস্থায় দায় এড়াতে পারে না। সংসদ বিরোধীদের বলার জায়গা, সরকারের গৃহীত নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা। অথচ বিরোধীদের প্রশ্ন তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা বক্তব্য রাখলে লোকসভা ও রাজ্যসভা টিভির ক্যামেরা বন্ধ রাখা হচ্ছে।
7) সরকারপক্ষ কিন্তু সংসদকে ব্যবহার করে তাদের কার্যসিদ্ধি করে যাচ্ছে। এই অধিবেশনেই 39টি বিল প্রায় কোনও আলোচনা ছাড়াই পাস করানো হয়েছে। কথায় কথায় সরকার অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসছে। কিন্তু খুব জরুরি প্রয়োজনেই তো অর্ডিন্যান্স আনার সংস্থান আছে। কিন্তু সরকারের ঘনঘন এত জরুরি প্রয়োজন পড়ছে কীসে?
8) আগে কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় দলেই কিছু সর্বজনমান্য নেতা ছিলেন, যারা বিরোধীদের নিয়ে একটা ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারতেন। গত 7 বছরের শাসনে বিজেপির ঘরে এমন কোনও নেতা নেই, যারা বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের সমর্থন আদায় করতে পারেন।
9) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা শুধু নতুন আইনের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু বিরোধীদের আনা সংশোধনী বা আপত্তির জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও তারা বিলগুলি পাঠাচ্ছেন না। দুই কক্ষেই তো এখন সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তাহলে তাদের ভয় কীসের?
10) কৃষি আইন সংসদের দুই কক্ষে পাস হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি সই পর্যন্ত করে দিয়েছেন। তবু চলমান কৃষক বিদ্রোহের জেরে সরকার এই আইন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। অতীতে এমন দেখা যায়নি। তবে কি সংসদ তার গুরুত্ব হারাচ্ছে? পথের রাজনীতি, পেশীর রাজনীতিই কি এবার শেষ কথা বলবে?
11) পেগাসাস, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাকপটু প্রধানমন্ত্রী নীরব। সরকার যদি আড়ি পাতার সঙ্গে যুক্ত নাই হবে, তাহলে কেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না? কেন বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখানোর সুযোগ দিচ্ছে? এগুলো কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন। আগামীদিনে হয়তো সংসদে আরও আক্রমণাত্মক, অনমনীয় ভঙ্গিতে বিরোধীদের দেখা যাবে।
রাজনীতিতে বিরামহীন দলবদল যেন বহুজাতিক সংস্থায় সুযোগ বুঝে চাকরি বদলোনোর মতোই একটা ব্যাপার হয়ে উঠছে।
দীর্ঘ বাম শাসনের ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরায় এবার কোন খেলা?
দেশভাগের যন্ত্রণা কি উদযাপনের বিষয়? কেন্দ্রীয় সরকারের হঠাৎ কেন এই ইতিহাস প্রীতি?
আপনাদের যা কিছু প্রশ্ন, সরাসরি উত্তর, যা কিছু মতামত খোলাখুলি আলোচনা, সঙ্গে সুদীপ্ত সেনগুপ্ত।
ভারতের ঘরের পাশেই চূড়ান্ত মৌলবাদী তালিবানের শাসন। কী প্রভাব পড়বে আমাদের দেশে ও দেশের বাইরে?
রাজ্যের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত মামলা হাইকোর্টের যে বিচারপতির এজলাসে তাঁর প্রতি অনাস্থা শাসকদলের।